রবিবার, ২৬ মে, ২০১৩

বাংলাদেশ সিকিমই হতে চলেছে ?

Photo: অতীত বার বার ফিরে আসে বর্তমান হয়ে, বাংলাদেশ বুঝি সিকিমই হতে চলেছে !!


হিমালয় পাদদেশে ছোট্ট স্বাধীন দেশ সিকিমকে ভারতীয় ইউনিয়নের একত্রিত করার বিল ভারতের পার্লামেন্টে আনা হয় ১৯৭৪ সালের ৪ই সেপ্টেম্বর। ঐ বিল পাশ হয় ৩১০-৭ ভোটে। কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (সিপিআই-এম) বিপক্ষে ভোট দেয় এবং সংবিধান পরিবর্তনের মাধ্যমে ১৯৭৫ সালের মে মাসে। সিকিমকে পাকাপোক্তভাবে একটি অঙ্গরাজ্য করা হয়। এর আগে ব্রিটিশ ভারতে সিকিম ছিলো একটি আশ্রিত রাজ্য। স্বভুমিজাত লেপচা উপজাতীয়রা সিকিমের জনসংখ্যার গরিষ্ঠ অংশ। এদের রয়েছে নিজস্ব ভাষা ও পোষাক। উনবিংশ শতাব্দির শেষ দিকে এবং বিংশ শতাব্দির গোড়ার দিকে তিব্বত থেকে ভুটিয়ারা ও নেপালিরা এসে বসতি স্থাপন করে। শিকিমে ৩টি ভাষা এখন প্রধান- লেপচা, ভুটানী ও নেপালী।

চতুদর্শ শতক থেকে নামগিয়াল বংশ সিকিমে রাজত্ব করে আসছিলো। প্রথম শাসক পুনটমং নামগিয়াল। ১৬৪২ সালে চোহিয়াল উপাধিতে ভূষিত করা হয় যার অর্থ ধর্মীয় অনুশাসন অনুসরন করে যিনি রাজ কার্য পরিচালনা করেন। সর্বশেষ চোগিয়ালকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয় ১৯৭৫ সালে।

৭২৯৮ বর্গ কিলোমিটার আয়তন বিশিষ্ট এই ছোট্ট দেশটির রাজধানী গ্যাংটক। ১৮৮৬ সালে এক চুক্তির অধীনে সিকিম আশ্রিত রাষ্ট্রের মর্জাদায় ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে যোগ দেয়। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ভারত ছেড়ে চলে গেলে ঐ চুক্তি অকার্যকর হয়ে পড়ে। ১৯৫০ সালে ভারতের সাথে সিকিমের চুক্তি হয়। ঐ চুক্তিতে সিকিমকে ভারতের আশ্রিত রাষ্ট্রের মর্জাদা দেয়া হয়। চুক্তির অধীনে প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র ও গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা দেখাশুনার পুরো কর্তৃত্ব ভারত নিয়ে নেয়।

চোগিয়াল ২৪ সদস্যের কাউন্সিলের মাধ্যমে দেশের শাসনকাজ পরিচালনা করতেন। এর মধ্যে ১৮ জন নির্বাচিত এবং ৬ জন চোগিয়াল মনোনীত। কাউন্সিলের ৩টি দলের প্রতিনিধি ছিল- ন্যাশনাল পার্টি, সিকিম ন্যাশনাল কংগ্রেস ও সিকিম জনতা কংগ্রেস।

১৯৭৩ সালের মার্চ এপ্রিলে ন্যাশনাল কংগ্রেস ও জনতা কংগ্রেস রাজনৈতিক সংস্কারের দাবি তোলেন। এবং এই দাবিতে আন্দোলন দিনে দিনে তুমুল হতে থাকে। চোগিয়ালের অনুরোধে ভারতীয় পুলিশ আইনশৃংখলা রক্ষা করে। ঐ ১৯৭৩ সালের ১৩ই এপ্রিল ঘোষনা করা হয় যে, চোগিয়াল রাজনৈতিক সংস্কারের দাবি মেনে নিতে রাজি আছেন। এছাড়া তার আর উপায়ও কিছু ছিল না। কারণ, তিনি স্পষ্ট অনুধাবন করেন এই আন্দোলনের পিছনে শক্তি কে? পরবর্তীকালে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা স্বীকার করেছেন যে, আন্দোলনের পিছনে তাদের ভুমিকা ছিল। সংস্কারে রাজি না হলে সিংহাসন থেকে উৎখাত করা হবে। এ ব্যাপারে তিনি ছিলেন নিশ্চিত তাই সিকিমের সাতন্ত্র রক্ষার চেষ্টায় রাজনৈতিক সংস্কারের অঙ্গীকার করেন। অঙ্গীকার মোতাবেক ১৯৭৪ সালের জুন মাসে সিকিম রাষ্ট্র আইনে পরিবর্তন আনা হয়। ঐ আইনের অধীনে চোগিয়ালের সর্বোচ্চ বিলুপ্ত হয়ে যায়। তিনি হন নিয়মতান্ত্রিক প্রধান। অবশ্য, আইন পরিষদে পাশ হওয়া আইন অনুমোদনের ক্ষমতা তাকে দেয়া হয়। এতেও শেষ রক্ষা হলো না। তাকে বিদায় নিতে হলো চিরদিনের মতো।

রাজনৈতিক সংস্কার অধীনে ১৯৭৪ সালের ১ জুলাই সিকিমে সাধারন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে সিকিম ন্যাশনাল কংগ্রেস বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়। দলটি আইন পরিষদের ৩২টি আসনের মধ্যে ৩১টি আসন পায়। দলের নেতা কাজী লেন্দুপ দরজি হলেন প্রধানমন্ত্রী। ভারত যা চাইছিল, সেটাই ঘটলো। কাজী লেন্দুপ দরজি তো তাদেরই লোক।

এই নির্বাচনের পর সিকিমকে ভারতের অঙ্গীভুত করার প্রস্তুতি নেয় ভারতে কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু এর জন্য একটা বৈধতার প্রলেপ দরকার। সেটা করে দিলেন কাজী লেন্দুপ দরজি। ১৯৭৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর তিনি বললেন: ভারতের দুই পরিষদ- লোকসভা ও রাজ্যসভায় সিকিমের প্রতিনিধি রাখার ব্যবস্থা করেও সিকিমকে আশ্রিত রাষ্ট্রের মর্যাদায় রাখা যেতে পারে।
কাজী লেন্দুপ দরজি যেহেতু আইন পরিষদের ৩২টি আসনের মধ্যে ৩১টি আসনের নেতা, তার মতামতই তো সিকিম জনগনের মতামত। সুযোগটা হাতছাড়া করলো না ভারত। কেন্দ্রীয় সরকার ১৯৫০ সালের চুক্তি, যাতে সিকিমকে আশ্রিত রাষ্ট্রের মর্যাদা দেয়া হয়, তা বাতিল করলো। সিকিমকে ভারতের অঙ্গরাজ্য করার বিল আনা হলো পার্লামেন্টে। এই বিল সম্পর্কে চোগিয়াল এক বিবৃতিতে বললেন :
‘সিকিমের স্বতন্ত্র অস্তিত্ব, যার নিশ্চয়তার আশ্বাস দেয়া হয়েছিল, ১৯৫০ সালের চুক্তিতে তা সিকিম জনগনের সম্মতি ছাড়াই এবং অজ্ঞাতে ভারতীয় পার্লামেন্টে সিকিমের প্রতিনিধি নেয়ার ত্বরিত পদক্ষেপে অস্বিকার করা হয়েছে।“

প্রধানমন্ত্রী মিসেস ইন্দিরা গান্ধির কাছে প্রেরিত এক বার্তায় চোগিয়াল বলেছেন যে বর্তমানে যে পদক্ষেপ, যা হবে “১৯৫০ সালের চুক্তির এক পার্শ্বিক বাতিলের সামিল এবং ভারতের সাথে সিকিমের একীকরণ।“
তিনি বলেন, ”ভারত-সিকিম সম্পর্কের সর্বোচ্চ আশ্বাস দেয়া হয় ভারত প্রদত্ত সিকিমের স্বতন্ত্র অস্তিত্ব বজায় রাখার রক্ষাকবচের মাধ্যমে।“

(কলকাতা থেকে প্রকাশিত অধুনালুপ্ত ইংরেজি দৈনিক দি অমৃতবাজার পত্রিকা, ২ সেপ্টেম্বর, সোমবার, ১৯৭৪)

https://docs.google.com/file/d/0B8_eJqXj-53aQXhaWHR1bWlMeVE/edit?pli=1অতীত বার বার ফিরে আসে বর্তমান হয়ে, বাংলাদেশ বুঝি সিকিমই হতে চলেছে !!


হিমালয় পাদদেশে ছোট্ট স্বাধীন দেশ সিকিমকে ভারতীয় ইউনিয়নের একত্রিত করার বিল ভারতের পার্লামেন্টে আনা হয় ১৯৭৪ সালের ৪ই সেপ্টেম্বর। ঐ বিল পাশ হয় ৩১০-৭ ভোটে। কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (সিপিআই-এম) বিপক্ষে ভোট দেয় এবং সংবিধান পরিবর্তনের মাধ্যমে ১৯৭৫ সালের মে মাসে। সিকিমকে পাকাপোক্তভাবে একটি অঙ্গরাজ্য করা হয়। এর আগে ব্রিটিশ ভারতে সিকিম ছিলো একটি আশ্রিত রাজ্য। স্বভুমিজাত লেপচা উপজাতীয়রা সিকিমের জনসংখ্যার গরিষ্ঠ অংশ। এদের রয়েছে নিজস্ব ভাষা ও পোষাক। উনবিংশ শতাব্দির শেষ দিকে এবং বিংশ শতাব্দির গোড়ার দিকে তিব্বত থেকে ভুটিয়ারা ও নেপালিরা এসে বসতি স্থাপন করে। শিকিমে ৩টি ভাষা এখন প্রধান- লেপচা, ভুটানী ও নেপালী।

চতুদর্শ শতক থেকে নামগিয়াল বংশ সিকিমে রাজত্ব করে আসছিলো। প্রথম শাসক পুনটমং নামগিয়াল। ১৬৪২ সালে চোহিয়াল উপাধিতে ভূষিত করা হয় যার অর্থ ধর্মীয় অনুশাসন অনুসরন করে যিনি রাজ কার্য পরিচালনা করেন। সর্বশেষ চোগিয়ালকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয় ১৯৭৫ সালে।

৭২৯৮ বর্গ কিলোমিটার আয়তন বিশিষ্ট এই ছোট্ট দেশটির রাজধানী গ্যাংটক। ১৮৮৬ সালে এক চুক্তির অধীনে সিকিম আশ্রিত রাষ্ট্রের মর্জাদায় ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে যোগ দেয়। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ভারত ছেড়ে চলে গেলে ঐ চুক্তি অকার্যকর হয়ে পড়ে। ১৯৫০ সালে ভারতের সাথে সিকিমের চুক্তি হয়। ঐ চুক্তিতে সিকিমকে ভারতের আশ্রিত রাষ্ট্রের মর্জাদা দেয়া হয়। চুক্তির অধীনে প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র ও গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা দেখাশুনার পুরো কর্তৃত্ব ভারত নিয়ে নেয়।

চোগিয়াল ২৪ সদস্যের কাউন্সিলের মাধ্যমে দেশের শাসনকাজ পরিচালনা করতেন। এর মধ্যে ১৮ জন নির্বাচিত এবং ৬ জন চোগিয়াল মনোনীত। কাউন্সিলের ৩টি দলের প্রতিনিধি ছিল- ন্যাশনাল পার্টি, সিকিম ন্যাশনাল কংগ্রেস ও সিকিম জনতা কংগ্রেস।

১৯৭৩ সালের মার্চ এপ্রিলে ন্যাশনাল কংগ্রেস ও জনতা কংগ্রেস রাজনৈতিক সংস্কারের দাবি তোলেন। এবং এই দাবিতে আন্দোলন দিনে দিনে তুমুল হতে থাকে। চোগিয়ালের অনুরোধে ভারতীয় পুলিশ আইনশৃংখলা রক্ষা করে। ঐ ১৯৭৩ সালের ১৩ই এপ্রিল ঘোষনা করা হয় যে, চোগিয়াল রাজনৈতিক সংস্কারের দাবি মেনে নিতে রাজি আছেন। এছাড়া তার আর উপায়ও কিছু ছিল না। কারণ, তিনি স্পষ্ট অনুধাবন করেন এই আন্দোলনের পিছনে শক্তি কে? পরবর্তীকালে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা স্বীকার করেছেন যে, আন্দোলনের পিছনে তাদের ভুমিকা ছিল। সংস্কারে রাজি না হলে সিংহাসন থেকে উৎখাত করা হবে। এ ব্যাপারে তিনি ছিলেন নিশ্চিত তাই সিকিমের সাতন্ত্র রক্ষার চেষ্টায় রাজনৈতিক সংস্কারের অঙ্গীকার করেন। অঙ্গীকার মোতাবেক ১৯৭৪ সালের জুন মাসে সিকিম রাষ্ট্র আইনে পরিবর্তন আনা হয়। ঐ আইনের অধীনে চোগিয়ালের সর্বোচ্চ বিলুপ্ত হয়ে যায়। তিনি হন নিয়মতান্ত্রিক প্রধান। অবশ্য, আইন পরিষদে পাশ হওয়া আইন অনুমোদনের ক্ষমতা তাকে দেয়া হয়। এতেও শেষ রক্ষা হলো না। তাকে বিদায় নিতে হলো চিরদিনের মতো।

রাজনৈতিক সংস্কার অধীনে ১৯৭৪ সালের ১ জুলাই সিকিমে সাধারন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে সিকিম ন্যাশনাল কংগ্রেস বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়। দলটি আইন পরিষদের ৩২টি আসনের মধ্যে ৩১টি আসন পায়। দলের নেতা কাজী লেন্দুপ দরজি হলেন প্রধানমন্ত্রী। ভারত যা চাইছিল, সেটাই ঘটলো। কাজী লেন্দুপ দরজি তো তাদেরই লোক।

এই নির্বাচনের পর সিকিমকে ভারতের অঙ্গীভুত করার প্রস্তুতি নেয় ভারতে কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু এর জন্য একটা বৈধতার প্রলেপ দরকার। সেটা করে দিলেন কাজী লেন্দুপ দরজি। ১৯৭৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর তিনি বললেন: ভারতের দুই পরিষদ- লোকসভা ও রাজ্যসভায় সিকিমের প্রতিনিধি রাখার ব্যবস্থা করেও সিকিমকে আশ্রিত রাষ্ট্রের মর্যাদায় রাখা যেতে পারে।
কাজী লেন্দুপ দরজি যেহেতু আইন পরিষদের ৩২টি আসনের মধ্যে ৩১টি আসনের নেতা, তার মতামতই তো সিকিম জনগনের মতামত। সুযোগটা হাতছাড়া করলো না ভারত। কেন্দ্রীয় সরকার ১৯৫০ সালের চুক্তি, যাতে সিকিমকে আশ্রিত রাষ্ট্রের মর্যাদা দেয়া হয়, তা বাতিল করলো। সিকিমকে ভারতের অঙ্গরাজ্য করার বিল আনা হলো পার্লামেন্টে। এই বিল সম্পর্কে চোগিয়াল এক বিবৃতিতে বললেন :
‘সিকিমের স্বতন্ত্র অস্তিত্ব, যার নিশ্চয়তার আশ্বাস দেয়া হয়েছিল, ১৯৫০ সালের চুক্তিতে তা সিকিম জনগনের সম্মতি ছাড়াই এবং অজ্ঞাতে ভারতীয় পার্লামেন্টে সিকিমের প্রতিনিধি নেয়ার ত্বরিত পদক্ষেপে অস্বিকার করা হয়েছে।“

প্রধানমন্ত্রী মিসেস ইন্দিরা গান্ধির কাছে প্রেরিত এক বার্তায় চোগিয়াল বলেছেন যে বর্তমানে যে পদক্ষেপ, যা হবে “১৯৫০ সালের চুক্তির এক পার্শ্বিক বাতিলের সামিল এবং ভারতের সাথে সিকিমের একীকরণ।“
তিনি বলেন, ”ভারত-সিকিম সম্পর্কের সর্বোচ্চ আশ্বাস দেয়া হয় ভারত প্রদত্ত সিকিমের স্বতন্ত্র অস্তিত্ব বজায় রাখার রক্ষাকবচের মাধ্যমে।“

(কলকাতা থেকে প্রকাশিত অধুনালুপ্ত ইংরেজি দৈনিক দি অমৃতবাজার পত্রিকা, ২ সেপ্টেম্বর, সোমবার, ১৯৭৪)

https://docs.google.com/file/d/0B8_eJqXj-53aQXhaWHR1bWlMeVE/edit?pli=1

ভারতকে দেয়া ট্রানজিট সুবিধার অংশ এই পোর্ট নির্মাণ..!?


Photoরোববার, ২৬ মে ২০১৩ঃঅতিগোপনে অনুমোদন দিয়েছে সরকার : কী কারণে এই পোর্ট নির্মাণের অনুমোদন দেয়া হয়েছে তা না দেখে বলা যাবে না -শাজাহান খান : পোর্টের বিষয়ে সরকার অবগত আছে : যুগ্ম সচিব আলাউদ্দিন : সংবিধান পরিপন্থি এবং স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি -শমসের মোবিন চৌধুরী
তাকী মোহাম্মদ জোবায়ের : নারায়ণগঞ্জে অভ্যন্তরীণ কনটেইনার পোর্ট নির্মাণ করছে ভারত। সরকার অতিগোপনে এই বন্দর নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছে। ভারতকে দেয়া ট্রানজিট সুবিধার অংশ হিসেবেই এই পোর্ট নির্মাণ করা হবে। এই পোর্টের প্রযুক্তিগত ও বাণিজ্যিক সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য ১০ মে দরপত্র আহ্বান করেছে ভারত সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ভারতকে এই বন্দর নির্মাণের অনুমোদন দেয়ার কথা গতকাল ইনকিলাবের কাছে স্বীকার করেছেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান।
নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুরে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে কুমুদিনি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের ৪৬ একর জমিতে নির্মাণ করা হচ্ছে এই পোর্ট। দরপ্রস্তাব জমা দেয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৭ জুন বিকাল ৩টা পর্যন্ত। অতিগোপনে সরকারের ভারতীয় এই পোর্টের অনুমোদন দেয়াকে বিপদজনক হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। একে দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
নৌ-পরিবহন মন্ত্রী গতকাল সন্ধ্যায় ফোনে ইনকিলাবকে বলেন, কী কী শর্তে বা কারণে এই পোর্ট নির্মাণের অনুমোদন দেয়া হয়েছে তা না দেখে বলা যাবে না। আগামীকাল (আজ) সচিবালয়ে গিয়ে ফাইলপত্র দেখে তা বলতে হবে।
নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. আলাউদ্দিন গতকাল সন্ধ্যায় ইনকিলাবকে বলেন, নারায়ণগঞ্জের পোর্টের বিষয়ে সরকার অবগত আছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কুমুদিনি কল্যাণ ট্রাস্টের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ভারত এই অভ্যন্তরীণ বন্দর নির্মাণ করবে।
বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক কূটনীতিক শমসের মোবিন চৌধুরী গতকাল সন্ধ্যায় ইনকিলাবকে বলেন, কী ধরনের চুক্তির মাধ্যমে সরকার এই প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে তা না জেনে মন্তব্য করা ঠিক হবে না। তবে সরকার বিষয়টি গোপন রেখে সবার মনে সন্দেহের সৃষ্টি করেছে। বিদেশের সাথে কোন বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে বা সমঝোতা হলে তা অবশ্যই প্রকাশ করতে হবে। গোপনে কোন কিছু করলে সেটা নীতিগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। এটা অবশ্যই সংবিধান পরিপন্থি এবং স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের জন্যও হুমকি।
জ্বালানি-গ্যাস-বিদ্যুৎ ও বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ বলেছেন, এটা ভারতকে দেয়া ট্রানজিট সুবিধারই অংশ। গোপনে সরকার ভারতকে পোর্ট নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছে। এটাই প্রমাণ করে এখানে স্বচ্ছতা নেই। এটা বিপদজনক। জনগণের কাছে আড়াল করেই বাংলাদেশে অন্য দেশ পোর্ট নির্মাণ করছে। ট্রানজিটের ক্ষেত্রেও একই লুকোচুরি হচ্ছে। ভারত একদিকে বাংলাদেশের চারদিকে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে জেলখানা বানাচ্ছে। অন্যদিকে বাংলাদেশকে তাদের সড়ক বানাচ্ছে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতের বন্দর নির্মাণ কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত দরপত্রের টার্মস অব রেফারেন্সে উল্লে¬খ করা হয়েছে, বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জে ৪৬ একর জমি রয়েছে কুমুদিনি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট অব বেঙ্গল লিমিটেডের। প্রতিষ্ঠানটি ভারতের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ওই জমিতে একটি অভ্যন্তরীণ নৌ-কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। টার্মিনাল নির্মাণে কারিগরি ও বাণিজ্যিক সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য ভারত সরকারের পক্ষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ দরপত্র আহ্বান করেছে। দরপত্র বিবরণীতে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের আওতাও তুলে ধরা হয়েছে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নারায়ণগঞ্জের প্রস্তাবিত টার্মিনালের স্থান পরিদর্শন করে একাধিক প্রতিবেদন জমা দেবে। এসব প্রতিবেদনে স্থানীয় বিভিন্ন শিল্পপণ্যের উৎপাদন, বর্তমান প্রবৃদ্ধি, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে হবে। পাশাপাশি প্রকল্পের শক্তি, সম্ভাবনা, দুর্বলতা ও ঝুঁকি বিষয়েও বিশ্লে¬ষণ করতে হবে।
নারায়ণগঞ্জের আশপাশে আর কোনো অভ্যন্তরীণ টার্মিনাল রয়েছে কিনা, সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে তাও গুরুত্ব পাবে। চলমান কনটেইনার টার্মিনালের সক্ষমতা, কনটেইনার ও কার্গোর ধরনসহ অবকাঠামো ও ব্যয় বিষয়ে আলোকপাত করতে হবে। জমির দাম, তার উন্নয়ন খরচ, অবকাঠামো নির্মাণ ও যন্ত্রপাতি স্থাপনে সম্ভাব্য ব্যয়ের একটি চিত্র তুলে ধরতে হবে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের প্রতিবেদনে। একই সঙ্গে থাকবে কনটেইনার হ্যান্ডলিং, টার্মিনাল ভাড়া, ভ্যালু এডেড সার্ভিসসহ অন্যান্য খাত থেকে সম্ভাব্য আয়ের বিবরণীও। এছাড়া টার্মিনাল পরিচালন ব্যয়, কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতা, বিদ্যুৎ, গ্যাস, কর ও শুল্কসহ আনুষঙ্গিক ব্যয়ের হিসাবও সংযুক্ত করতে হবে।
দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী, কার্যাদেশ পাওয়ার ১৪ সপ্তাহের মধ্যে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শেষ করতে হবে। ছয় সপ্তাহের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন পার্ট-এ, পরবর্তী তিন সপ্তাহে অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন পার্ট-বি, পরবর্তী তিন সপ্তাহে খসড়া প্রতিবেদন (পার্ট-এ, পাট-বি ও পার্ট-সি) এবং পরবর্তী দুই সপ্তাহের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে আদি ভারতীয় পরামর্শক/পেশাদারদের কাছ থেকে সিলগালা দরপত্র আহ্বান করছে। সেকশন অফিসার (ডিপিএ), রুম নং ৩১৩১, বি উইং, জওহর লাল নেহেরু ভবন (জেএনবি), নয়া দিল্লি থেকে ২ হাজার রুপির পে-অর্ডারের বিনিময়ে পাওয়া যাবে দরপত্রের ডকুমেন্ট। এ জন্য ‘পে এন্ড একাউন্টস অফিসার, মিনিস্ট্রি অব এক্সটারনাল অ্যাফেয়ার্স, নয়া দিল্লি¬’ বরাবরে এই পে-অর্ডার জমা দিতে হবে। দরপত্র জমা দেয়ার সময় এর সঙ্গে এক লাখ রুপির ইএমডি ড্রাফট ‘দ্য পে এন্ড একাউন্টস অফিসার, মিনিস্ট্রি অব এক্সটারনাল অ্যাফেয়ার্স’ বরাবর জমা দিতে হবে। দরপত্র জমা দিতে হবে দুই-বিজ্ঞপ্তি (টু বিড) সিস্টেমে। এর একটি হবে টেকনিক্যাল। আরেকটি মূল্য বা খরচ বাবদ।
জানা গেছে, কয়েক বছর আগে নারায়ণগঞ্জে কনটেইনার টার্মিনাল তৈরির পরিকল্পনা করে কুমুদিনি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট। সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গঠন করা হয় কুমুদিনি কনটেইনার টার্মিনাল। চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দরের পাশাপাশি ভারতীয় আমদানি-রফতানিকৃত পণ্য লোড-আনলোডে নারায়ণগঞ্জ কনটেইনার টার্মিনাল স্থাপনই এর প্রধান উদ্দেশ্য। বেনাপোল বন্দরের বিকল্প হিসেবে এ টার্মিনাল ব্যবহার করা যায় কিনা, তাও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

www.dailyinqilab.com
 
 

শনিবার, ২৫ মে, ২০১৩

নারায়ণগঞ্জে টার্মিনাল পোর্ট নির্মাণের টেন্ডার দিয়েছে ভারত.!?

নারায়ণগঞ্জে টার্মিনাল পোর্ট নির্মাণের টেন্ডার দিয়েছে ভারত সরকার; তা ও দিল্লীতে বসে! সবাইকে শাহবাগ আর মতিঝিলে ব্যস্ত রেখে একদিকে সুন্দরবন ধ্বংশের রামপাল প্রকল্প চুক্তি স্বাক্ষর শেষ না হতেই নারায়নগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে নির্মাণ করা হচ্ছে এই টার্মিনাল। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণে কারিগরি ও বাণিজ্যিক সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য দরপত্রও আহ্বান করেছে। দর প্রস্তাব জমা দেয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৭ জুন বিকাল ৫টা পর্যন্ত। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়, সমুদ্র পরিবহন অধিদফতর (ডিজি শিপিং) ও বিনিয়োগ বোর্ড কারও অনুমোদন নেই। এমনকি নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখাসহ বন্দর শাখাও এ বিষয়ে কোনো কিছুই অবগত নয়। এখন পর্যন্ত বিনিয়োগ বোর্ডেও এ বিষয়ে কোনো আবেদন জমা পড়েনি। সবাইকে অন্ধকারে রেখে দেশের একেকটি অংশকে এভাবে একের পর এক ভারতের হাতে তুলে দিচ্ছে আওয়ামী লীগ সরকার।

ভারতের গোলামী করার জন্যই কী আমরা পাকিস্তান থেকে স্বাধীন হয়েছিলাম? দেশ আজ দুইভাগে বিভক্ত। একদিকে দেশকে ভারতের হাতে তুলে দিতে চাওয়া কিছু দালাল, আর অন্যদিকে দেশ প্রেমিক বাংলাদেশী। আপনি কোন পক্ষে?


http://3.imimg.com/data3/QX/GV/HTT-947/947_2013-05-10-13-12-48_1368171768.jpg

খবরের লিংক: http://www.amadershomoy2.com/content/2013/05/24/middle0760.htm#.UZ8aE2CAQdk.facebook

ভারতীয় ওয়েবসাইটে টেন্ডারটির আসল লিঙ্ক: http://tenders.indiamart.com/details/977289872/
নারায়ণগঞ্জে টার্মিনাল পোর্ট নির্মাণের টেন্ডার দিয়েছে ভারত সরকার; তা ও দিল্লীতে বসে! সবাইকে শাহবাগ আর মতিঝিলে ব্যস্ত রেখে একদিকে সুন্দরবন ধ্বংশের রামপাল প্রকল্প চুক্তি স্বাক্ষর শেষ না হতেই নারায়নগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে নির্মাণ করা হচ্ছে এই টার্মিনাল। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণে কারিগরি ও বাণিজ্যিক সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য দরপত্রও আহ্বান করেছে। দর প্রস্তাব জমা দেয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৭ জুন বিকাল ৫টা পর্যন্ত। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়, সমুদ্র পরিবহন অধিদফতর (ডিজি শিপিং) ও বিনিয়োগ বোর্ড কারও অনুমোদন নেই। এমনকি নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখাসহ বন্দর শাখাও এ বিষয়ে কোনো কিছুই অবগত নয়। এখন পর্যন্ত বিনিয়োগ বোর্ডেও এ বিষয়ে কোনো আবেদন জমা পড়েনি। সবাইকে অন্ধকারে রেখে দেশের একেকটি অংশকে এভাবে একের পর এক ভারতের হাতে তুলে দিচ্ছে আওয়ামী লীগ সরকার।

ভারতের গোলামী করার জন্যই কী আমরা পাকিস্তান থেকে স্বাধীন হয়েছিলাম? দেশ আজ দুইভাগে বিভক্ত। একদিকে দেশকে ভারতের হাতে তুলে দিতে চাওয়া কিছু দালাল, আর অন্যদিকে দেশ প্রেমিক বাংলাদেশী। আপনি কোন পক্ষে?


http://3.imimg.com/data3/QX/GV/HTT-947/947_2013-05-10-13-12-48_1368171768.jpg

খবরের লিংক: http://www.amadershomoy2.com/content/2013/05/24/middle0760.htm#.UZ8aE2CAQdk.facebook

ভারতীয় ওয়েবসাইটে টেন্ডারটির আসল লিঙ্ক: http://tenders.indiamart.com/details/977289872/

বুধবার, ২৪ এপ্রিল, ২০১৩

বাঙালিদের প্রকৃত অবস্হা সম্পর্কে একজন উপজাতি সাংবাদিকের লেখা!

পার্বত্য চট্টগ্রামের অবহেলিত বাঙালিদের প্রকৃত অবস্হা সম্পর্কে একজন উপজাতি সাংবাদিকের লেখা পড়ুন >>
"বান্দরবান রাজভিলা ইউনিয়নের পূর্নবাসিত বাঙ্গালীদের দেখার কেউ নেই"

চাউচিং মারমা, রাজস্থলী:-সবাইতো সুখী হতে চাই। সুখের জীবন কেনা ভালবাসে। তাই সুখের সন্ধানে মায়ের ভুমি ত্যাগকরে এসেছিল বান্দরবান উপজেলার রাজভিলা ইউনিয়নেরইসলামপুর এলাকায়। কিন্তু ত্রিশ বছরের সুখের বদলে বেড়েছে সংকটের জীবন। দেখেও দেখেনা প্রতিশ্রুতিবাদী রাজনৈতিক নেতারা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এসবপূর্নবাসিত বাঙ্গালীদের জীবন কেমন চলছে। আশি দশকের পরে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হোসেন মোহাম্মদ এরশাদ সরকার আমলে এসব বাঙ্গালীরা সমতলের বিভিন্ন স্থান থেকে এসে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসতি স্থাপন শুরু করেন। সরকারের নানা সুযোগ-সুবিধা প্রতিশ্রুতি ঘোষনায় তাদেরকানে যেন কোকিলে কন্ঠে চেয়ে মধুর ছিল। তাই সরকারীভাবে রিফিউজি কার্ডধারী ছাড়াও অনেকেই পরিবার নিয়ে আসেন পাহাড়ে।প্রচুর পরিত্যাপ্ত ভুমিতেএকটু স্বচ্ছভাবে বসবাসের আশায়। এখানে বসতি স্থাপন পর থেকে আর সুখ পাখির সন্ধান মিলনা। সুখের অপেক্ষায় ত্রিশ বছর অতিবাহিত হল। এখন আর এসব সুখের কথা তারা বিশ্বাস করছে না। সবকিছুই ভাগ্য লিখন উপর ছেড়ে জীবন চলছে। ছেলে মেয়ে আতœীয়-স্বজন পরিবার পরিজন সমাজ ব্যবস্থা সবকিছুই গড়ে তুলেছে পাহাড়ের বৈচিত্রময়পরিবেশের সাথে। প্রজন্মেরসন্তানগুলো এখন আর রিফিউজি নয়। তারা পার্বত্য চট্টগ্রামের সন্তান বলে তাদের দাবী। তাই সব ছেলে মেয়েরা সমতল ভুমিতে বসবাস করারও ইচ্ছাপ্রকাশ করছে না। কিন্তু ত্রিশ বছরের সমতল চেয়ে এখানে তাদের কি উন্নতি হলো ? এসব প্রশ্নে কোন উত্তর দিতে পারছে না তারা।
সরেজমিনে ইসলামপুর বাজার এলাকা বালুমুড়া মুসলিম পাড়ার মুদি দোকানদার মোঃ জাবেদ আলী(৪২) বলেন, পশ্চিশ বছর আগে ব্যবসা করতে এসে একজন রিফিউজির সাথে সর্ম্পক হয়। তার কাছ থেকে তিনি চল্লিশ শতক জায়গা কিনে রাঙ্গুনিয়া চারাবটতলী গ্রাম ছেড়ে এখানে বসতি স্থাপন করেন। তিনি জানান, বান্দরবান রাজভিলা ৩নং ওয়ার্ডে আওতায় বালুমুড়া মুসলিম পাড়ায় ত্রিশ বছরেরও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা হয়নি। তাদের খাবার, গোসলসহসব কাজের ব্যবহার একমাত্রবাধেঁর পানি। নেই কোন স্বাস্থ্য সম্মত পায়খানা ঘর। পাড়ার প্রায় চৌব্বিশটি পরিবারের কারো ঘরের ছেলে মেয়ে মেট্রিক পাশ করেনি। অথচ পা বাড়ালে বিদ্যুৎ, সলিল রাস্তা, হাট-বাজার সবকিছু আধুনিক ব্যবস্থা। তিনি অভিযোগ করে বলেন, পশ্চিশ বছরের সরকারের কোন সুযোগ-সুবিধাপায়নি। পাড়ার অনেকেই ভিজিডি, ভিজিএফ কার্ড পেতেদেখেছে। কিন্তু তার ভাগ্যআর হয়ে উঠেনি।
মোঃ নুরুল হোসেন (৪৮) তিনিরাঙ্গামাটির রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। পৈত্রিক ভিটা খুলনার সুন্দরবন। তিনিও ত্রিশ বছর ধরে এখানে বসবাস করছেন। আত্নীয়-স্বজনের কথা শুনে এখানে তার আসা। কোন রিফিউজি কার্ড পায়নি। তিনি জানান, দুই বছর পর্যন্ত প্রতিটি পরিবারের জন্য গম বরাদ্দ ছিল। তারপর থেকে পাহাড়ের গাছ, বাশঁ কাটা আর দিন মজুরী জীবন। এখন এসব কিছুই নেই। গাছ, বাশঁ উজারহয়ে গেছে নিচ্ছে না কেউ শ্রমিক হিসেবে। আর যারা রিফিউজি কার্ড পেয়ে পাচঁ একর পাহাড় বন্দোবস্তী ছিল। তারাও অনেকেই অভাবে বসতি ভিটা রেখে বিক্রি করে দিচ্ছে। পারেনি ত্রিশবছরের নিদিষ্ট কোন পেশায় কাজ করার সিদ্ধান্ত নিতে।তার দুঃখ, কেউ তাদের কথা ভাবে না। আমরা অভাবী মানুষ আমাদের কথা কে বলবে? এ সব বিষয় নিয়ে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে সদস্য মোঃ জয়নাবের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, সরকারীভাবে বিশুদ্ধ পানি ব্যবস্থা হয়নি। বেসরকারী সংস্থা গ্রীন হিল রিংস্লাব ও নলকুপ ব্যবস্থা করেছিল। কিন্তু এলাকার মানুসগুলো অসচেতনতা নষ্ট হয়ে গেছে। রাজভিলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ক্যসিংশৈ মারমা বলেন, বিশুদ্ধ পানি সংকটের বিষয় অনুধাপন করে এ পর্যন্ত ১৫টি বরাদ্দের মধ্যে ৩নং ওয়ার্ডের জন্য রিংওয়েল একটি এবং ডিএইচ পি ৩টি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দে অপ্রতুলতায় বিশুদ্ধ পানি সংকট সহসা সমাধান করার সম্ভব নয়। * সিএইচটিনিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম

পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে বাঙালি উচ্ছেদের আয়োজন চূড়ান্ত!


সরকার
বিদেশী বিভিন্ন সংস্থার
চাপে পার্বত্য চট্টগ্রাম
ভূমি আইনে বেশ কিছিু সংশোধনী চূড়ান্ত
করেছে। এসব সংশোধনী কার্যকর
হলে সেখান থেকে বাঙালিরা উচ্ছেদ
হয়ে যাবে আর পার্বত্য ভূমির ওপর
সরকারের কর্তৃত্ব বলতে কিছুই
থাকবে না।
এ দিকে পার্বত্য চট্টগ্রামের
ভূমি বিরোধের নিষ্পত্তি ঠিক
কবে হবে সেটি নিশ্চিত করে সরকারের
তরফে কেউ বলতে পারছেন না।
তবে প্রধানমন্ত্রীর দফতরের
একটি সূত্র মতে মেয়াদ শেষ হওয়ার
আগেই সরকার এ বিষয়ে একটি চূড়ান্ত
নির্দেশনা দিয়ে যাবে।
গত বছরের ১৯ জুলাই পার্বত্য
চট্টগ্রাম ভূমি কমিশনের চেয়ারম্যান
বিচারপতি খাদেমুল ইসলামেরমেয়াদ
শেষের পর সরকার এ পদে নতুন
করে কাউকে নিয়োগ দেয়নি।একই
সাথে কমিশনের নিয়মিত কার্যক্রম
বন্ধ করে দেয়া হয়। ৯ মাস
ধরে কমিশনে কোনো কাজই হচ্ছে না।
গত বছরের জুলাই মাসের শেষ
দিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি আইনের
সংশোধনী চূড়ান্ত করা নিয়ে সরকারের
ভেতরে বিরোধ দেখা দেয়। রাজনৈতিক
সিদ্ধান্তের কারণে ভূমি আইনের
১৩টি সংশোধনী আনা হয়েছে উল্লেখ
করে ভূমি মন্ত্রণালয়ের একজন শীর্ষ
কর্মকর্তা নয়া দিগন্তকে বলেন, এ আইন
কার্যকর করা হলে পার্বত্যচট্টগ্রাম
থেকে বাঙালিদের
বেরিয়ে আসতে হবে। অথচ পার্বত্য
চট্টগ্রাম চুক্তি অনুসারেসেখানে বৈধ
নাগরিকদের থাকার কথা। তারমতে,
কেবল বাঙালি নয় সেখানে সরকারও
অনেকটা কার্যকরহীন হয়ে পড়বে।
বিশেষ করে সরকারের ভূমির
সার্বভৌমত্ব বা কর্তৃত্ব থাকবে না।
তার ওপর পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের
সংরক্ষিত বনাঞ্চল, জলে ভাসা ভূমি,
এমনকি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের
হাতে স্থাপিত রাষ্ট্রের প্রথম ভূ-
উপগ্রহের জমির ওপরও সরকারের
কর্তৃত্ব থাকবে না। এ
দিকে বোমাং সার্কেলের ১৭তম
রাজা হিসেবে নির্বাচিত উ চ প্রু
বলেছেন, পাহাড়ে বাঙালি-
পাহাড়ি বিভেদ
তৈরি করে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব
হবে না। ভূমি সমস্যার সমাধানে সব
পক্ষকে আন্তরিক হতে হবে।
ভূমি আইনের
সংশোধনী সম্পর্কে ভূমি সচিব
মোখলেসুর রহমানের
কাছে জানতে চাইলে তিনি নয়া দিগন্ত
এখনো পার্বত্য ভূমি আইন চূড়ান্ত হয়নি।
এটি এখন আইন মন্ত্রণালয়েরয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পার্বত্য
চট্টগ্রামে ভূমি নিয়ে সরকারের
ভেতরে বিরোধ চলছে। এ বিরোধ
মেটানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী তার
তরফে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা গওহর
রিজভীকে দায়িত্ব দিয়েছেন।
তবে সরকারের শীর্ষ
কর্মকর্তারা তাকে জানিয়েছেন,
আলোচিত সংশোধনী যদি চূড়ান্ত করা হয়
তাহলে পাহাড়ে সরকারের
কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। রাষ্ট্রের
মোট ভূমির ১০ শতাংশ নিয়ে পার্বত্য
চট্টগ্রাম গঠিত।
ভূমি মন্ত্রণালয় সূত্র মতে, সরকারের
ওপর বিদেশী বিভিন্ন সংস্থার
চাপে রাজনৈতিকভাবে আইনটি সংশোধন
চেষ্টা করা হচ্ছে।
আসলে এখানে সে রকম কোনো কিছুর
দরকার নেই।
জনসংহতি সমিতি সরকারকে এ আইন
সংশোধনে বাধ্য করতে বিদেশীদের
দ্বারস্থ হচ্ছে।
সূত্র মতে, রাষ্ট্রের
ভেতরে আরেকটি রাষ্ট্রের আদল
গড়ে তুলবে এ আইন। তাই তারা এ
আইনটি সংশোধনের বিপক্ষে তাদের
অবস্থানের কথা জানিয়েছেন।
তবে ভূমি মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য খুব
একটা আমলে নিচ্ছে না সরকারের
রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ।
তারা মনে করছেন,
সমস্যা চুকিয়ে ফেলার জন্য আইনটির
প্রস্তাবিত ১৩টি সংশোধনীইচূড়ান্ত
করতে হবে।
২০০১ সালে এ আইনটি আওয়ামী লীগ
সরকারই করেছিল। যেটাকে কালো আইন
উল্লেøখ করে প্রত্যাখ্যান করে আসছিল
জনসংহতি সমিতির সভাপতি ও পার্বত্য
চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান
সন্তু লারমা। তাকে সহযোগিতা করছেন
চাকমা সার্কেল চিফ ব্যারিস্টার
রাজা দেবাশীষ রায়। তিনি দেশে ও
দেশের বাইরের পাহাড়িদের
বিষয়টি সবার নজরে আনার
কাজটি করে থাকেন। আইন
সংশোধনে সর্বশেষ যে যৌথ সভা সরকার
করেছিল তিনি সেখানেও হাজির
ছিলেন।
সরকারের দাবি ও নৃবিজ্ঞানীদের
বিশ্লেষণ মতে,
দেশে কোনো আদিবাসী না থাকলেও
ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়
বাংলাদেশের হয়েও জাতিসঙ্ঘের
আদিবাসীবিষয়ক
ফোরামে আদিবাসী সদস্য।
রাজা দেবাশীষ পার্বত্য চট্টগ্রাম
থেকে বাঙালিদের উচ্ছেদের
পক্ষে জনমত তৈরি করছেন বলে অভিযোগ
করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম সমঅধিকার
আন্দোলনের নেতা মনিরুজ্জামান।
তিনি নয়া দিগন্তকে বলেন, পাহাড়
থেকে বাঙালিদের উচ্ছেদে সবাই এখন
শোর তুলেছে ভূমি আইন সংশোধনের। এ
আইন সংশোধন করা হলে পার্বত্য
চট্টগ্রামে বাঙালিরা থাকতে পারবে ন
অথচ যুগের পর যুগ
ধরে সেখানে বাঙালিরা বসবাস
করে আসছেন।
অন্য দিকে জনসংহতি সমিতির
কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রচারসম্পাদক মঙ্গল
কুমার চাকমা নয়া দিগন্তকে বলেছেন,
তাদের লক্ষ্য বাঙালি বিতাড়ন নয়।
তারা পাহাড়িদের
ভূমি মালিকানা বুঝে পেতে কাজ
করছেন।
এতে অবশ্য আশ্বস্ত
হতে পারছে না বাঙালিরা। কারণ
হিসেবে তারা বলেছেন, সরকার
এখানে যে ভূমি কমিশন করেছিল
তাকে প্রত্যাখ্যান
করেছে জনসংহতি সমিতি ও
ইউপিডিএফ। দু’আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল
নিজেদের মধ্যে বিবাদ করলেও
বাঙালিদের বিষয়ে তাদের অবস্থান
অভিন্ন উল্লেখ করে মনিরুজ্জামান
বলেন, এখানে বাঙালি খেদাও আন্দোলন
চলছে। এটা চলতে দেয়া উচিত
হবে না।
আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর
পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি কমিশন
পুনর্গঠন করে নতুন
করে বিচারপতি খাদেমুল
ইাসলামকে নিয়োগ দেয়।
তবে জনসংহতি সমিতি ও পার্বত্য
চট্টগ্রামের তিনটি সার্কেলের
প্রধানরা তাকে বয়কট করেন। এ রকম
পরিস্থিতিতেও তিনি কাজ
চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
 #
সরকার বিদেশী বিভিন্ন সংস্থার চাপে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি আইনে বেশ কিছিু সংশোধনী চূড়ান্ত করেছে। এসব সংশোধনী কার্যকর হলে সেখান থেকে বাঙালিরা উচ্ছেদ হয়ে যাবে আর পার্বত্য ভূমির ওপর সরকারের কর্তৃত্ব বলতে কিছুই থাকবে না।
এ দিকে পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি বিরোধের নিষ্পত্তি ঠিক কবে হবে সেটি নিশ্চিত করে সরকারের তরফে কেউ বলতে পারছেন না। তবে প্রধানমন্ত্রীর দফতরের একটি সূত্র মতে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সরকার এ বিষয়ে একটি চূড়ান্ত নির্দেশনা দিয়ে যাবে।
গত বছরের ১৯ জুলাই পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি খাদেমুল ইসলামের মেয়াদ শেষের পর সরকার এ পদে নতুন করে কাউকে নিয়োগ দেয়নি। একই সাথে কমিশনের নিয়মিত কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়। ৯ মাস ধরে কমিশনে কোনো কাজই হচ্ছে না।
গত বছরের জুলাই মাসের শেষ দিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি আইনের সংশোধনী চূড়ান্ত করা নিয়ে সরকারের ভেতরে বিরোধ দেখা দেয়। রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে ভূমি আইনের ১৩টি সংশোধনী আনা হয়েছে উল্লেখ করে ভূমি মন্ত্রণালয়ের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা নয়া দিগন্তকে বলেন, এ আইন কার্যকর করা হলে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে বাঙালিদের বেরিয়ে আসতে হবে। অথচ পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি অনুসারে সেখানে বৈধ নাগরিকদের থাকার কথা। তার মতে, কেবল বাঙালি নয় সেখানে সরকারও অনেকটা কার্যকরহীন হয়ে পড়বে। বিশেষ করে সরকারের ভূমির সার্বভৌমত্ব বা কর্তৃত্ব থাকবে না। তার ওপর পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের সংরক্ষিত বনাঞ্চল, জলে ভাসা ভূমি, এমনকি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের হাতে স্থাপিত রাষ্ট্রের প্রথম ভূ-উপগ্রহের জমির ওপরও সরকারের কর্তৃত্ব থাকবে না। এ দিকে বোমাং সার্কেলের ১৭তম রাজা হিসেবে নির্বাচিত উ চ প্রু বলেছেন, পাহাড়ে বাঙালি-পাহাড়ি বিভেদ তৈরি করে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে না। ভূমি সমস্যার সমাধানে সব পক্ষকে আন্তরিক হতে হবে।
ভূমি আইনের সংশোধনী সম্পর্কে ভূমি সচিব মোখলেসুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি নয়া দিগন্তকে বলেন, এখনো পার্বত্য ভূমি আইন চূড়ান্ত হয়নি। এটি এখন আইন মন্ত্রণালয়ে রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি নিয়ে সরকারের ভেতরে বিরোধ চলছে। এ বিরোধ মেটানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী তার তরফে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা গওহর রিজভীকে দায়িত্ব দিয়েছেন। তবে সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তারা তাকে জানিয়েছেন, আলোচিত সংশোধনী যদি চূড়ান্ত করা হয় তাহলে পাহাড়ে সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। রাষ্ট্রের মোট ভূমির ১০ শতাংশ নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম গঠিত।
ভূমি মন্ত্রণালয় সূত্র মতে, সরকারের ওপর বিদেশী বিভিন্ন সংস্থার চাপে রাজনৈতিকভাবে আইনটি সংশোধনের চেষ্টা করা হচ্ছে। আসলে এখানে সে রকম কোনো কিছুর দরকার নেই। জনসংহতি সমিতি সরকারকে এ আইন সংশোধনে বাধ্য করতে বিদেশীদের দ্বারস্থ হচ্ছে।
সূত্র মতে, রাষ্ট্রের ভেতরে আরেকটি রাষ্ট্রের আদল গড়ে তুলবে এ আইন। তাই তারা এ আইনটি সংশোধনের বিপক্ষে তাদের অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। তবে ভূমি মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য খুব একটা আমলে নিচ্ছে না সরকারের রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ। তারা মনে করছেন, সমস্যা চুকিয়ে ফেলার জন্য আইনটির প্রস্তাবিত ১৩টি সংশোধনীই চূড়ান্ত করতে হবে।
২০০১ সালে এ আইনটি আওয়ামী লীগ সরকারই করেছিল। যেটাকে কালো আইন উল্লেøখ করে প্রত্যাখ্যান করে আসছিল জনসংহতি সমিতির সভাপতি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান সন্তু লারমা। তাকে সহযোগিতা করছেন চাকমা সার্কেল চিফ ব্যারিস্টার রাজা দেবাশীষ রায়। তিনি দেশে ও দেশের বাইরের পাহাড়িদের বিষয়টি সবার নজরে আনার কাজটি করে থাকেন। আইন সংশোধনে সর্বশেষ যে যৌথ সভা সরকার করেছিল তিনি সেখানেও হাজির ছিলেন।
সরকারের দাবি ও নৃবিজ্ঞানীদের বিশ্লেষণ মতে, দেশে কোনো আদিবাসী না থাকলেও ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায় বাংলাদেশের হয়েও জাতিসঙ্ঘের আদিবাসীবিষয়ক ফোরামে আদিবাসী সদস্য। রাজা দেবাশীষ পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে বাঙালিদের উচ্ছেদের পক্ষে জনমত তৈরি করছেন বলে অভিযোগ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম সমঅধিকার আন্দোলনের নেতা মনিরুজ্জামান।
তিনি নয়া দিগন্তকে বলেন, পাহাড় থেকে বাঙালিদের উচ্ছেদে সবাই এখন শোর তুলেছে ভূমি আইন সংশোধনের। এ আইন সংশোধন করা হলে পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙালিরা থাকতে পারবে না। অথচ যুগের পর যুগ ধরে সেখানে বাঙালিরা বসবাস করে আসছেন।
অন্য দিকে জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রচার সম্পাদক মঙ্গল কুমার চাকমা নয়া দিগন্তকে বলেছেন, তাদের লক্ষ্য বাঙালি বিতাড়ন নয়। তারা পাহাড়িদের ভূমি মালিকানা বুঝে পেতে কাজ করছেন।
এতে অবশ্য আশ্বস্ত হতে পারছে না বাঙালিরা। কারণ হিসেবে তারা বলেছেন, সরকার এখানে যে ভূমি কমিশন করেছিল তাকে প্রত্যাখ্যান করেছে জনসংহতি সমিতি ও ইউপিডিএফ। দু’আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল নিজেদের মধ্যে বিবাদ করলেও বাঙালিদের বিষয়ে তাদের অবস্থান অভিন্ন উল্লেখ করে মনিরুজ্জামান বলেন, এখানে বাঙালি খেদাও আন্দোলন চলছে। এটা চলতে দেয়া উচিত হবে না।
আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি কমিশন পুনর্গঠন করে নতুন করে বিচারপতি খাদেমুল ইাসলামকে নিয়োগ দেয়। তবে জনসংহতি সমিতি ও পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি সার্কেলের প্রধানরা তাকে বয়কট করেন। এ রকম পরিস্থিতিতেও তিনি কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তার কাজের প্রতি স্থানীয় পাহাড়িদের আস্থা ছিল উল্লেøখ করে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন সূত্র থেকে বলা হচ্ছে, আস্থার প্রমাণ হলো ৫ হাজার পাহাড়ি কমিশনে তাদের ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তির আবেদন করেছিল। সে আবেদন কেবল আঞ্চলিক পরিষদ ও পাহাড়ি সার্কেল চিফদের অসহযোগিতার কারণে নিষ্পত্তি করা যায়নি।
 http://ctgtimes.com/archives/32781

শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল, ২০১৩

পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সেনা-বাঙ্গালী প্রত্যাহার ও খ্রিস্টান অঞ্চল প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন

পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সেনা-বাঙ্গালী প্রত্যাহারও খ্রিস্টান অঞ্চল প্রতিষ্ঠার স্বপ্নঃ


নৈস্বর্গিক সৌন্দর্য্য ও প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর বাংলাদেশের এক দশমাংশ পার্বত্য চট্টগ্রামে কারা থাকবে, কারা থাকতে পারবে না, তার ভাগ্য নির্ধারনের ইজারা যে বিদেশী প্রভূরা নিয়ে রেখেছে তা পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক কথিত আন্তর্জাতিক কমিশনের বিভিন্ন সময়ের বক্তব্যে স্পষ্ট প্রতীয়ামান হয়েছে। অলিখিত চুক্তির দোহাই দিয়ে পার্বত্যাঞ্চলকে বাঙ্গালী শূন্য করার যে দাবী এতদিন যাবৎ সন্তু বাবুদের মুখে শুনে আসছিলাম, বর্তমানে চুক্তি বাস্তবায়নের এমন ক্ষণে শুনছি, বিদেশী কূটনীতি ও রাজনীতিবিদদের মুখে। অবশ্য পাহাড় থেকে বাঙ্গালী বিতাড়নে সিএইচটি কমিশন ষড়যন্ত্রের নতুনমাত্রা যোগ করেছে। তাহলো, বাঙ্গালীরা স্বেচ্ছায় পার্বত্য চট্টগ্রাম না ছাড়লে তাদের কে দেয়া সরকারি রেশনসহ যাবতীয় সুযোগ সুবিধা বন্ধ করে দিতে হবে। (সূত্র দৈনিক ইনকিলাব)। কমিশনের  ধারণা, এতে বাঙ্গালীরা স্বেচ্ছায় পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে উৎসাহ উদ্দীপনার সাথে চলে যাবে।
সমস্যা আমাদের, মাথা ব্যাথা তাদের। আমাদের অভ্যন্তরীণ সমস্যা নিয়ে বিদেশী এ সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে বাঙ্গালীদেরকে বহিস্কার করতে সরকারের কাছে যে ফর্মূলা উপস্থাপন করেছে তা আমরা ১৫ বছর পূর্বেই ১৯৯৮ সালে লেখনির মাধ্যমে পার্বত্যবাসীকে অবগত করেছি।
১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর সম্পাদিত চুক্তির মাধ্যমেই দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রকারীরা পার্বত্য চট্টগ্রামে অবাধে চলাফেরার লাইসেন্স পায়। তারা সুকৌশলে  বাঙ্গালী ও দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে উচ্ছেদ করার মাধ্যমে তাদের এ দেশীয় দোসরদের নিয়ে (যারা মুক্তিযুদ্ধের সময় পার্বত্য চট্টগ্রামে রাজাকারের ভূমিকা পালন করেছিল) খ্রিস্টান অধ্যুষিত অঞ্চল বানানোর মিশনি রূপরেখা অনুযায়ী এরাই চুক্তির দীর্ঘ ১ দশকের মধ্যে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছিল পার্বত্য চট্টগ্রামে কারা থাকবে, কারা থাকতে পারবে না।
পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা যেমন পুরাতন, তেমনি কঠিন। এই সমস্যা আমাদের, সমাধানও আমাদেরকে করতে হবে। কিন্তু অবাক লাগে তখন, যখন দেখি দেশে জনপ্রিয় গণতান্ত্রিক সরকার থাকা সত্ত্বেও আমাদের সমস্যার বিষয়ে সমাধানের পথ বের করতে ইউরোপের কোন দেশে বিদেশী মিশনারীদের বৈঠক হয়। বিগত ২০০৮ সালের ৩১ মে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত বিশেষজ্ঞদের সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের ১২ জন সদস্য নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক আন্তর্জাতিক কমিশন গঠন করা হয়। এ কমিশন জাতিসংঘের দায়িত্বশীল কোন সংস্থা নয় কিংবা বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে গঠিত কোন সংগঠনও নয়। আমাদের এই ভূ-খণ্ডের প্রাকৃতিক-খনিজ সম্পদ গ্রাস করতে এরা এ অঞ্চলের  মানুষদের নিয়ে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের জাল বুনতে অতি উৎসাহ দেখিয়ে মূলতঃ এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। এদের সাংবিধানিক কোন অধিকার না থাকলেও এরা পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে নাক গলাচ্ছে।
সিএইচটি কমিশন তাদের এ দেশীয় দোসরদের নিয়ে বিভিন্ন সময় পার্বত্য চট্টগ্রাম সফর করেছেন। এইসব সফরে মূলতঃ স্থায়ী শান্তি স্থাপনের বিপরীতে অশান্তির বীজ বপন করা হয়েছে। অবশ্য তারা সরকারের নিকট বেশ কিছু সুপারিশও তুলে ধরেছে। সরকারের নিকট প্রেরিত এইসব সুপারিশমালায় সিএইচটি কমিশন উল্লেখ করেছে, পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙ্গালীরা অসহনীয় পরিস্থিতির মধ্যে বসবাস করছে। এই দূর্ভোগ লাঘবে বাঙ্গালীদের পার্বত্যাঞ্চলের বাইরে পুনর্বাসন করা গেলে তাদের এই অসহনীয় দুঃখ কষ্টের পরিসমাপ্তি ঘটবে। সেই সাথে পার্বত্য চট্টগ্রামের উপর লোকসংখ্যার চাপ হ্রাস পাবে। অবশ্য এই ক্ষেত্রে বাঙ্গালীরা স্বেচ্ছায় পার্বত্য চট্টগ্রাম না ছাড়লে রেশনসহ তাদের সকল সুযোগ সুবিধা বন্ধ করে দিতে হবে। সেনা প্রত্যাহারেও তাদের রয়েছে শক্ত অবস্থান। তাদের উদ্দেশ্য পরিষ্কার, পার্বত্য অঞ্চল থেকে বাঙ্গালী শূন্য ও সেনা প্রত্যাহারের মাধ্যমে এখানকার অঞ্চলের খনিজ সম্পদ গ্রাস করাসহ এই অঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিজেদের আয়ত্বে এনে এই অঞ্চলকে খ্রিষ্টান অধ্যুষিত অঞ্চলে পরিণত করা। যে মিশনে এরা ইতিমধ্যে অনেক দূর অগ্রসর হয়েছে। ইতিমধ্যে হাজার হাজার চাক্মা, মারমা, ত্রিপুরা সহ  পাংখো, বোম, লুসাই, চাক, তঞ্চাগ্যা, খুমি, মুরং ও খিয়াংসহ অন্যান্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নৃ-তান্ত্রিক উপজাতীয় জনগোষ্ঠি খ্রিষ্টান ধর্ম গ্রহণ করেছে। বান্দরবান জেলায় পাংখো, বোম, লুসাই সম্প্রদায়ের অধিকাংশ লোক ইতোমধ্যে ধর্মান্তরিত হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে হাজার হাজার উপজাতি তাদের নিজস্ব ধর্মীয়, সামাজিক কৃষ্টি, সভ্যতা, সংস্কৃতির অস্তিত্ব বিলিয়ে দিয়ে খ্রিষ্টান ধর্ম গ্রহণ করছে। ফলে তাদের সমৃদ্ধ ইতিহাস ঐতিহ্য বিলীন হয়ে যাচ্ছে নিরবে। অনেক এনজিও উপজাতীয় তরুণদের খ্রিষ্টান ধর্মে এনে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের জন্য অষ্ট্রেলিয়া, সুইডেন, কোরিয়া, ফ্রান্স, চীন, জাপান, নরওয়ে, থাইল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড সহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাঠাচ্ছে। এছাড়া তিন পার্বত্য জেলায় একাধিক হাসপাতাল, ক্লিনিক, ছাত্রাবাস, ছাত্রীনিবাস, লাইব্রেরী প্রতিষ্ঠা এবং শিক্ষা উপকরণ বিতরণের মাধ্যমে  বিভিন্ন বয়সের উঠতি উপজাতীয় ছেলে-মেয়েদেরকে খৃষ্ঠান ধর্ম গ্রহণে আকৃষ্ট করছে।
সূত্রমতে, পার্বত্য চট্টগ্রাম কেন্দ্রিক  এনজিও তৎপরতা চট্টগ্রাম, ফটিকছড়ি, মিরসরাইয়ের উত্তরাংশে (খাগড়াছড়ি সংলগ্ন) পটিয়া, কক্সবাজার, চকরিয়া, ফেনীর পরশুরাম ও কুমিল্লার কিছু অংশে বিস্তৃতি লাভ করেছে। এছাড়া দেশের অন্যান্য রাজ্যেও খ্রিষ্টান মিশনারীদের কাজ চলছে। এরা বার্মার পার্বত্য সীমান্তবর্তী বিপুল এলাকা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ী এ অঞ্চলকে নিয়ে উপজাতীয় খৃষ্টানদের একচ্ছত্র আধিপত্য তথা খ্রিস্টান রাজ্য প্রতিষ্ঠার ষড়যন্ত্র করছে বলে অনেকে মত প্রকাশ করেছেন। উল্লেখ্য,  যে দেশে গেরিলা যুদ্ধ রয়েছে সে দেশের গেরিলা তৎপরতা পরিচালনায় তাদের অস্ত্র, অর্থ সরবরাহ ঘটনাও নতুন নয়। ইতিমধ্যে ভারতের অনেক গেরিলা গোষ্ঠি এই ফাঁদে পড়ে খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করেছে।
পার্বত্য এলাকায় জুম্মল্যান্ড গঠন, ভারতের ৭টি রাজ্যে স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা ও বার্মার বিস্তৃর্ণ পার্বত্য সীমান্তবর্তী এলাকা নিয়ে এ বিশাল অঞ্চলকে খ্রিস্টান অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার ষড়যন্ত্র অনেক আগের। সেই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে পার্বত্য অঞ্চলে  বেশকিছু এনজিও  খ্রিষ্টান মিশনারী  তৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে বলে নানা সময়ে অভিযোগ উঠেছে। এসব  এনজিও  গুলোর বিরুদ্ধে অধিক মুনাফার বিনিময়ে ঋণ কার্যক্রম, উপজাতীয়দেরকে খ্রিস্টান ধর্মে দীক্ষিতকরণ, পূর্ণ স্বায়ত্বশাসনের গেরিলা তৎপরতায় সহযোগিতা প্রদান, সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিষোদগার, সাম্প্রদায়িক উস্কানী, উপজাতীয়দের প্রতি মানবাধিকার লঙ্ঘনের অপপ্রচার, রাজনৈতিক অস্থিশীলতা সৃষ্টিসহ নানা ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে পার্বত্য শান্তিচুক্তির পর পার্বত্য এলাকায় হু হু করে অনেক এনজিও এসে আস্তানা গেড়েছে। পূর্ণাঙ্গ খ্রিষ্টান অঞ্চল বানাতে চুক্তি বাস্তবায়নের এমন সময়কে এরা মোক্ষম সময় হিসেবে বেছে নিয়ে ষড়যন্ত্রের নানা ডালপালা বিস্তার করছে।
এসব তথ্য পাওয়ার পর সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এনজিওগুলোর নিকট আর্থিক ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব ও  এনজিওগুলোর নিয়ন্ত্রণহীন কার্যকলাপ রোধে আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে। সরকার বা দেশের মানুষ জানতে পারছে না কোথায় কিভাবে এ অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। বিলম্বে হলেও সরকারের এই সুমতি উদয় হওয়ায় পাহাড়বাসীর পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। বিদেশী মিশনারীরা সন্তু লারমার কাতারে বসে শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে নিজেদের আকাক্ষা বাস্তবায়নে এরা কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে চুক্তি বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করছে। অন্যদিকে, চুক্তি বাস্তবায়নের পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে ইউ.এন.ডি.পিসহ বিদেশী এ সমস্ত দাতা সংস্থা ও মিশনারীরা তিন পার্বত্য জেলায় ব্যাপক মোটিভেশন ওয়ার্ক চালাচ্ছে। আমাদের সমস্যা নিয়ে বিদেশীদের অযাচিত হস্তক্ষেপসহ তাদের দেখানো পথ ধরেই যেন চলতে হচ্ছে আমাদের। তাদের ষড়যন্ত্রমূলক  সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে আমাদের উপর। এতকিছুর পরও সরকারের কোন কার্যকর প্রতিবাদ নেই।
 বাংলাদেশ পরাধীন কোন রাষ্ট্র নয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম এই দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশের এক দশমাংশ অঞ্চল। সাংবিধানিক অধিকার মতে, এইখানে যারা বসবাস করছে তারা প্রত্যেকে স্বাধীন দেশের নাগরিক। পার্বত্যাঞ্চলের মানুষ যেমন ঢাকাসহ সমতলের বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাস করার অধিকার রাখেন ঠিক অনুরূপভাবে সমতল অঞ্চলের মানুষও এখানে বসবাস করার অধিকার রাখেন। দেশের এই অবিচ্ছেদ্য অংশের মাটি ও মানুষের আভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে তাদের মাথা ঘাঁমানো কতটুকু কুটনৈতিক শিষ্ঠাচারের মধ্যে পড়ে তা ভেবে দেখা দরকার  ? তাদের জানা থাকা উচিত, পাহাড়ের কোন পোষ্যপুত্র নেই। এখানে পাহাড়ী-বাঙ্গালী যারাই বসবাস করছে প্রত্যেকেই কোন না কোনভাবে এখানে এসেছে। কেউ এসেছে জুম চাষ করতে, আবার কেউ এসেছে পুনর্বাসিত হবার স্বপ্নে। তবে কেউ আগে- কেউ পরে, তফাৎ শুধু এখানেই। তাদের এ দেশীয় দোসর, এনজিও মার্কা সুশীল সমাজ নামধারী যাদেরকে নিয়ে এখান থেকে বাঙ্গালী খেঁদানোর ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে তা এখনি বন্ধ করা উচিত। তা না হলে এদেশের মুক্তিকামী মানুষ তা সমুচিত জবাব দিতে আগেও ভুল করেনি, ভবিষ্যতেও ভুল করবে না। বীর বাঙ্গালীরা পার্বত্যাঞ্চলে পুনরায় জেগে উঠলে তারা পালিয়ে যাবার পথ খুঁজে পাবেন না। কমিশনের জানা উচিত পার্বত্যাঞ্চলে কাউকে রেখে, কাউকে তাড়িয়ে দিয়ে এখানে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখা হবে অলীক স্বপ্ন মাত্র, যা কখনোই বাস্তবায়ন হতে পারে না।
পার্বত্য শান্তি চুক্তি সম্পাদিত হবার থেকে সাবেক গেরিলা নেতা সন্তু লারমারা দাবি করে আসছে এই অঞ্চল থেকে সেনা শাসন ও বাঙ্গালীদেরকে বহিস্কার করতে সরকারের সাথে তাদের অলিখিত চুক্তি হয়েছে। সেই অলিখিত চুক্তির বলেই এদের প্রভূরা বিদেশের মাটিতে বসে চুক্তি বাস্তবায়নের নামে বাঙ্গালীদের ভাগ্য নিয়ে নানা ষড়যন্ত্রের জাল বুনছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে বাঙ্গালীদের নিয়ে যেতে হবে। সন্তু লারমাদের এই ধরনের দাবীর প্রেক্ষিতে চুক্তি সম্পাদনকারী তৎকালীন সরকার বর্তমান মহাজোট সরকার একাধিকবার বলেছেন, অলিখিত চুক্তি নামে কোন চুক্তি হয়নি। পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে বাঙ্গালী উচ্ছেদ করার প্রশ্নেই উঠে না। তবে শান্তি চুক্তি পূর্ণ বাস্তবায়নের প্রশ্নে পাহাড়ী-বাঙ্গালীদের নানা বিষয় নিয়ে সরকারের অবস্থান এখনও পরিস্কার নয়। শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের নামে বাঙ্গালী প্রত্যাহারে এই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে সন্দেহ অবিশ্বাসের যে বাসা বেঁধেছিল তা এখনও বলবৎ রয়েছে। দাতা সংস্থা কিংবা বিদেশী প্রভূ যাই-ই বলিনা কেন তাদের চাপে হোক কিংবা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নেরর জন্যই হোক সরকার ক্ষমতায় আসার মাত্র ৬ মাসের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামে  দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রকারীদের তৎপরতা বন্ধ এবং স্বায়ত্বশাসনের নামে গেরিলা তৎপরতা, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, হত্যা, রাহাজানি রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিয়ে তড়িঘড়ি করে চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করায় এ অঞ্চলের মানুষদের মধ্যে নতুন করে সন্দেহ  অবিশ্বাসের জন্ম হয়েছিল। অন্যদিকে, চুক্তি বাস্তবায়নের মোক্ষম সেই সময়কে বেছে নিয়ে বিদেশী মিশনারীরা ব্যাপক সোচ্ছার হয়ে উঠেছিল। যদিও  তাদের সেই সব স্বপ্ন পুরণ হয়নি।
সন্তু লারমা ও সিএইচটি কমিশনের উদ্দেশ্যে বলব, পার্বত্য চট্টগ্রামে কোন জনগোষ্ঠিকে পুর্নবাসন, আবার কোন জনগোষ্ঠিকে উচ্ছেদ করে এতদাঞ্চলের স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা কোন ভাবেই সম্ভব নয়। বরং যে কোন সময়ের তুলনায় পার্বত্য চট্টগ্রাম আরও বেশি বিস্ফোরণ মূখর হয়ে উঠবে। আপনারা যদি মনে করেন,  উস্কানীমূলক বক্তব্য দিয়ে পাহাড়ী-বাঙ্গালীদের মধ্যে দাঙ্গা সৃষ্টি করে সকলের নজর ঘুরিয়ে ফায়দা হাসিল করবেন তা ভুলে যান। আপনার মনে থাকা উচিত ১৯০ বৎসর বৃটিশ বিরোধী সংগ্রামের মাধ্যমে ১৯৪৭ সালে মধ্য আগস্টে আপনার দেশ ব্রিটেন এদেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়। তবে আমরা এখনও নিশ্চিত যে, এদেশের প্রতি বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামে অনাবিষ্কৃত থাকা থাকা প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদসহ এ অঞ্চলের মাটির প্রতি তাদের লোলুপ দৃষ্টি, এদেশবাসীকে শাসন-শোষণ করার নেশা এখনও কাঁটেনি। তাই পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সেনাবাহিনী ও বাঙ্গালী বিতাড়িত করে উপজাতীয়দেরকে খ্রিস্টান ধর্মের দীক্ষা দিয়ে পার্বত্যঞ্চলকে নিরাপদ খ্রিস্টান অঞ্চল বানানোর চক্রান্ত অব্যাহত রেখেছে।

পার্বত্য শান্তি চুক্তির মাধ্যমে বিদেশীরা নানা মিশন নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত জনপদে অবাধে চলাফেরার লাইসেন্স পেয়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিদেশী ইউ.এন লগো লাগানো গাড়ীতে চড়ে এন্টেনা ও শক্তিশালী ওয়ার্লেস সেট লাগিয়ে এরা নিজেদের মিশন বাস্তবায়নে পার্বত্যাঞ্চলের প্রত্যন্ত দূর্গম জনপদ চষে বেড়াচ্ছে। বলা হচ্ছে, পার্বত্য চট্টগ্রামের বিরাজমান পরিস্থিতির কারণে এই অঞ্চলে বসবাসরত জনগোষ্ঠি উন্নয়ন, আধুনিকতার ছোঁয়া থেকে অনেক দূর পিছিয়ে রয়েছে। তাই পিছিয়ে পড়া এই সব জনগোষ্ঠির আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নের কথা বলে অর্থ্যাৎ আমাদের মাথা বিক্রি করে বিদেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা আনা হয়েছে। পার্বত্যাঞ্চলের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের নামে তাদের মিশন বাস্তবায়নে এই সব অর্থ ব্যয় হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। শুনেছি, আগামী বছর ইউএনডিপির দ্বিতীয় পর্যায়ের উন্নয়ন কাজ শেষ হবে। কি কাজ করেছে, কোথায় করেছে, কার জন্য করেছে তাদের কিছুই জানে না পার্বত্যবাসী। এমনকি স্থানীয় প্রশাসনও এদের মিশন সম্পর্কে তেমন কোন খোঁজ খবর রাখেন না। দেশী-বিদেশী এসব  এনজিওগুলোর কাজের মনিটরিং করার দায়িত্ব পার্বত্য জেলা পরিষদ ও জেলা প্রশাসনের। জেলা প্রশাসন মাস শেষে এনজিওদের নিয়ে সমন্বয় সভা করলেও তাদের কর্মকা- নিয়ে তেমন কোন বিতর্কে জড়াতে চান না। তবে ইউএনডিপিসহ দাতা সংস্থাগুলো বিভিন্ন সময়ে সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অযাচিত হস্তক্ষেপ করে আমাদের উন্নযনে যেমন বাঁধা সৃষ্টি করছে, একইভাবে তারা যে উন্নয়নের কথা বলছে তা আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছে। অনেকের মতে, পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান স্থানীয় সংসদ সদস্যদেরকে  কোটি কোটি টাকার বিলাসবহুল বিদেশী গাড়ী উপহার দিয়ে তাদের মুখ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
আমাদের মাথা বিক্রি করে যেসব টাকা বিদেশ থেকে আনা হয়েছে  সেই টাকায় কাদের ভাগ্যের উন্নয়ন হয়েছে, তা পাহাড়ের মানুষ জানে না। তবে, এটা নিশ্চিত যে, বিদেশী এবং তাদের এ দেশীয় দোসরদের উন্নয়ন ছাড়াও আর কারও উন্নয়ন হয়েছে বলে মনে হয় না। এরা বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবে না, পুনর্বাসিত বাঙ্গালীদের কল্যাণে দীর্ঘ বা স্বল্প মেয়াদী কোন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে বা তাদের কল্যাণে কোন  টাকা ব্যয় করেছে। তবে মাঝে মধ্যে উপজাতীয় অধ্যূষিত এলাকায় স্বাস্থ্য, স্যানিটেশন, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহসহ কয়েকটি মৌলিক ইস্যুতে কাজ করতে দেখেছি।  তাতেও পাহাড়ীদের ভাগ্যের বিন্দুমাত্র পরিবর্তন হয়নি, জয় করতে পারেনি দারিদ্রতাকে। যে পরিমাণ টাকা বিদেশীরা এখানে ব্যয় করেছে বলে দাবী করছে তার শত ভাগের একভাগও যদি সঠিকভাবে কাজে লাগতো তাহলে পার্বতাঞ্চলে বসবাসরত জনগোষ্ঠিকে চরম দারিদ্র সীমার নীচে বসবাস করতে হতো না। মূলত বিদেশীরা তাদের এ দেশীয় দোসরদের নিয়ে খ্রিস্টান অঞ্চল বানানোর পিছনে আনীত অর্থ ব্যয় করে যাচ্ছে।
এই অঞ্চলে বাঙ্গালীসহ বিভিন্ন উপজাতীয় সম্প্রদায়গুলো কিভাবে বসতি স্থাপন করেছে তা কারও অজানা নয়। ১৯৮০-৮১ সালে তৎকালীন সরকার সমতল জেলার বিভিন্ন অঞ্চলের নদীভাঙ্গা ভূমিহীন, দিন মজুর, অসহায় দুঃস্থ পরিবারগুলোকে এনে সরকারী  খাস ভূমিতে যেখানে হিংস্র জীবজন্তু বসবাস করত সেখানে পুনর্বাসন করা হয়। এই পুনর্বাসনের কয়েক বছর যেতে না যেতেই শান্তিবাহিনী নামক উপজাতীয় গেরিলারা  সরকারের উপর প্রতিশোধ নিতে পুর্নবাসিত বাঙ্গালীদের উপর চালায় অত্যাচারের ষ্টীম রোলার। কোলের শিশু থেকে শত বছরের বৃদ্ধ পর্যন্ত রেহাই পাইনি তাদের ব্রাশ ফায়ার থেকে। অনেককে দেয়া হয়েছে জীবন্ত কবর, স্বামীর সামনে স্ত্রীকে করা হয়েছে ধর্ষণ। তাদের অত্যাচার নির্যাতনের মাত্রা এতই ভয়াবহ ছিল যে, পাকিস্তানীদের শোষনকেও হার মানিয়েছে। ফলে সরকার বাধ্য হয় বাঙ্গালীদেকে স্ব-স্ব বসতভিটা, বাগান বাগিচা থেকে তুলে এনে গুচ্ছগ্রাম নামক বন্দী শিবিরে আটক করতে। সেইখানেও হামলা থামেনি। চুতর্দিকে নিরাপত্তা বেষ্টনী সৃষ্টি করে ছোট্ট গুচ্ছগ্রাম নামক বন্দী কুটিরের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে শুরু হয় গুচ্ছগ্রামবাসীদের জীবন-জীবিকা। মাস শেষে ৮৫  কেজি সরকারি খয়রাতি রেশন ব্যতীত গত ৩০ বছর যাবত ৮৬টি গুচ্ছগ্রামে ২৬,২২০ পরিবার (বর্তমানে কয়েকগুণ) প্রায় লক্ষাধিক বাংলা ভাষাভাষি লোকের  ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হয়নি। তাদেরকে পুনর্বাসনে নেয়া হয়নি সরকারী কোন উদ্যোগ। তাদের জন্য ব্যয় হয় না দেশি বিদেশী কোন অর্থ। পূর্ন নাগরিক সুযোগ সুবিধা বঞ্চিত এসব গুচ্ছগ্রামবাসীরা প্রত্যেক সরকারের সময়ে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। তাদের পুনর্বাসনের স্বপ্ন দেখানো হলেও বাস্তবে এর বিন্দুমাত্র প্রতিফলন নেই। তাই বঞ্চিত অসহায় এসব গুচ্ছগ্রামবাসীরা মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে, দারিদ্রতার চরম কষাঘাতে প্রয়োজনীয় সাহায্য সহযোগিতা ছাড়াই প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম বেড়ে উঠছে। এদের হারাবার আর কিছুই নেই, আর যাদের হারাবার কিছুই থাকে না তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে আর যাই হোক টিকে থাকা যায় না। তাই সিএইচটিসকমিশনসহ বিদেশী দাতা সংস্থাগুলোর  উদ্দেশ্যে বলব, সন্তু লারমাদের সুরে সুর না তুলে যে মানব সেবার কথা বলে পার্বত্য চট্টগ্রামে আস্তানা গেড়েছেন সেই কাজে মনোনিবেশ করুন।  এতে আমার আপনার তথা পার্বত্যবাসীর মঙ্গল হবে।
http://parbattanews.com/?p=131
-সুকুমার বড়ুয়া
 লেখক: সংবাদকর্মী,খাগড়াছড়ি।

বুধবার, ১৭ এপ্রিল, ২০১৩

একটি কমলা ফিতার গল্প !


যে কারনে ২০০৯ সালে বিডিআর ধংস করলো ভারত
*****************************************
আপনাদের কারো মনে কি এখনো বিন্দু মাত্র সন্দেহ আছে যে পিলখানার সেই নৃশংস হত্যাকান্ডে ভারতীয় মদদ ছিল কিনা, ক্ষমতাসীন আওয়ামী সরকারের প্রত্যক্ষ হাত ছিল কিনা। তাহলে এই লেখাটি সম্পূর্ন পড়ুন।
২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিডিআর হত্যাকান্ডের নেপথ্য নায়কদের শনাক্ত করা কোনো দুরূহ ব্যাপার ছিল না। বাংলাদেশ ও এর সেনাবাহিনীর প্রতিপক্ষ কে এবং কারা ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশের অস্তিত্ববিরোধী, এ হত্যাকান্ডের বেনিফিশিয়ারি কে, কারা এ ঘটনার সাথে সাথেই অতিমাত্রায় তৎপরতা দেখিয়েছে ইত্যাদি বিশ্লেষণের মাধ্যমে ওই অপশক্তিকে শনাক্তকরণ দুরূহ নয়।

ক্ষমতাসীন সরকারের বক্তব্য হলো- সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্যই এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। বিরোধী দলের অভিযোগ- প্রতিবেশী দেশের মিত্রদের সহযোগিতায় সেনাবাহিনীকে দুর্বল করতে, গৃহযুদ্ধ সৃষ্টি করতে এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে ভারতীয় সৈন্য পাঠিয়ে এ দেশকে ছায়ারাষ্ট্রে পরিণত করতে এ নির্মম হত্যাকান্ড ঘটানো হয়েছে। অন্যদিকে ভারত এ ঘটনার পরপরই আইএসআইকে দায়ী করেছে। সাথে সাথে বাংলাদেশ সরকারের কিছু মন্ত্রী এবং ভারতীয় সাহায্যপুষ্ট সংবাদমাধ্যম ভারতের অভিযোগের অনুকূলে তথ্য প্রচারে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।
কিছু প্রশ্ন যার জবাব আজও পাওয়া যায় নিঃ
(১) কেন এবং কার নির্দেশে ২০ ঘণ্টার জন্য পিলখানা বিডিআর ক্যাম্পে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা হলো? আর সেই ঘনকৃষ্ণ অন্ধকারের সুযোগ নিয়েই দুষ্কৃতকারীরা সমস্ত অপকর্ম করলো এবং পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেলো?
(২) শেখ হাসিনার ভাষণের সাথে সাথেই সমগ্র পিলখানা বিডিআর ক্যাম্প কেন কর্ডন করা হলো না? প্রায় ১০ হাজার বিডিআর সদস্যকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেয়া হলো কেন?
(৩) ছাই রঙের অস্ত্র বোঝাই ট্রাকের কথা বলা হয়েছে। সেটি কার? কিভাবে সেটি ভেতরে ঢুকলো?
(৪) ৫ নং গেটকে সম্পূর্ণ অরক্ষেত রাখা হয়েছিল কেন?
(৫) হাসিনা সরকারকে উৎখাত করার জন্যই বিডিআরে এই হত্যাকান্ড ঘটানো হয়েছে- ভারতের এই আশংকার ভিত্তি কি?
(৬) শেখ হাসিনার সরকার উৎখাত হতে পারে, এমন আশংকায় আসামের একটি বিমান ঘাঁটিতে মুহূর্তের নোটিশে উড্ডয়নের জন্য ভারতীয় বিমান বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছিলো কেন?
(৭) ডি এ ডি তৌহিদের নেতৃত্বে যে ১৪ জন বিডিআর সদস্য শেখ হাসিনার সাথে দেনদরবার করতে গিয়েছিলো, তাদের মধ্যে অবশিষ্ট ১২ জন গেলো কোথায়?এদের নামে থানায় এজাহার করা হয়নি কেন? এখন তারা কোথায়?
(৮) সম্মেলন শুরুর ৩ দিন আগে বিডিআর এর অস্ত্রাগার থেকে ৫টা অস্ত্র খোয়া যায়। ভিভিআইপি প্রোটোকল অনুযায়ী কোন অবস্থাতেই সেখানে (অস্ত্র খোয়া যাওয়া স্থানে) ভিভিআইপি কে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না। তাহলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গেল কিভাবে?
(৯) বলা হয়েছে বিডিআর জওয়ানরা অস্ত্রাগার থেকে অস্ত্র লুট করেছে। কিন্তু ভিভিআইপি প্রোটোকল অনুযায়ী যখন কোন ভিভিআইপি এইসব জায়গায় যায় তখন শুধুমাত্র তার ব্যাক্তিগত গার্ডদের কাছে ফায়ার করার মত অস্ত্র থাকে, বাকি অস্ত্রের disable করে রাখা হয়। তাহলে বিডিআর এর অস্ত্রাগারে ফায়ার করার মত অস্ত্র আসল কোথা থেকে?
(১০) ভারতের NDTV 24 -এ সকাল ১০:৪৫ এ স্ক্রলে এবং পরে সংবাদে বলা হয়েছে পিলখানায় মেজর জেনারেল শাকিল সহ ৫০ এর বেশি অফিসার মারা গেছেন। অথচ আমরা শাকিলের মারা যাবার খবর পেয়েছি তার পরের দিন, আর তখন পর্যন্ত ৫০ জনের বেশি অফিসার মারা যায়নি। ভারতীয়রা এটা আগে জানলো কিভাবে?


তবে এর কিছু প্রশ্নের জবাব আমরা ধীরে ধীরে পেতে শুরু করেছি।
এবার আরও মনযোগ দিন।
একটি গেরুয়া রঙের ফিতার গল্প !
***************************************

আমাদের বিডিআররা কেন গেরুয়া রঙের ফিতা মাথায় লাগিয়ে আছে যা কিনা বাংলাদেশ বিরোধী একটি সশস্ত্র গ্রুপের চিহ্ন বহন করে,কেউ জবাব দেবেন কি?
এতে সরকারের কিছু করার ছিল না! তাহলে তারা কি সরকারের সাহায্য ছাড়াই মিশন শেষ করে আবার নিরাপদে ফিরে গেল?
এখন যেমন তত্বাবধায়ক সরকারের সময়কার বিভিন্ন আওয়ামী নেতাদের দূর্নীতির স্বীকারোক্তি বেরিয়ে আসছে, তেমনি এদের আরেকবার থেরাপী দিলেই এই মেধাবী অফিসারদের হত্যার নেপথ্যের সব সংবাদ বেরিয়ে আসবে।অবশ্য বাংলাদেশে অবস্থা বেগতিক দেখলে এরা সেই ভারতেই পালিয়ে যায়।

শেখ মুজিবকে হত্যার পর থেকেই আমাদের সেনাবাহিনীর প্রতি ক্ষোভ ছিল শেখ হাসিনার, কিন্তু তাই বলে ভারতের একটি ট্রেইন্ড জঙ্গী গ্রুপের সহায়তায় এভাবে নৃশংস হত্যাকান্ড চালানো কোন ভাবেই মানতে পারি না।
(Thanks to Dasotto Shekol)

Youtube আবার বন্ধ করেছে,আমাদের ক্যান্টনমেন্টগুলাতে হাসিনা বুবু ইন্টারনেট কানেকশন কেটে দিতে পারেন এই লেখা দেখার পর !
শেয়ারের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে নিজ দেশের স্বার্থ বিসর্জনকারী ভারত দালালদের মুখোশ উন্মোচন করে দিন। নারকীয় এই হত্যাকান্ডের প্রতিবাদ করুন।



 এই ফটো স্ট্যাটাসটির নাম এভাবেই বলতে চাই।

ছবিতে প্রথম ৯ টি ছবির সাথে শেষ একটি ছবির কোন মিল খুঁজে পাওয়া যায় কিনা দেখুন !
প্রথম ৯ টি ছবি ভারতীয় বজরং দলের ।
ওদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বলছে - ২০০১ এর ১৩ ই জুন থেকে ওরা আর্মস ট্রেনিং নিচ্ছে।
http://www.hinduunity.org/bajrangdal.html

সপ্তম যে ছবিটি দেখছেন সেটি অযোধ্যার , বাচ্চা ছেলেকে অস্ত্র প্রশিক্ষন দেয়া হচ্ছে।
৮ম ছবিটি নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত আরেকটি ছবি - অস্ত্র সামনে রেখে কোন একটা পুজা করছে।
http://www.nytimes.com/imagepages/2008/11/12/world/12india_CA1.inline.ready.html

৯ম ছবিটি ওদের অস্ত্র প্রশিক্ষনের।

এরা বেশ গত মাসের ৬ তারিখে , মানে ৬ ই মার্চ ২০১৩ তে বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর আক্রমনের কারনে বাংলাদেশ বিরোধী মিছিল করছে -
http://www.in.com/bajrang-dal/photogallery-30579.html?imid=0dMmayU8lq2HN

এর আগে পদুয়ায় বিডিআরের কাছে ২০০ থেকে মতান্তরে ৩০০ জন বি এস এফ কচুকাঁটা হওয়ার পর এরা দিল্লিতে বাংলাদেশ দুতাবাস আক্রমন করতে চেয়েছিলো।

শেষের ১০ নাম্বার ছবিটা ২০০৯ এর ২৫ শে ফেব্রুয়ারি ঘটে যাওয়া বিডিআর বিদ্রোহের।
হাতা ভাজ করা , গায়ে ঢিলেঢালা , আশে পাশের আরও কয়েকজনকে দেখুন।
কি মনে হয় ?

আমাদের ক্যান্টনমেন্টগুলাতে হাসিনা বুবু ইন্টারনেট কানেকশন কেটে দিতে পারেন এই স্ট্যাটাসটা দেখার পর !


https://www.facebook.com/dasotto.dasotto/posts/490250577697228